ক্রাইমস্টোরিঃ নেক্রোফিলিয়াক পর্ব-২


৪.
‘কলেজে চলে আসতে পারতি ।’ একটু হেসে মাথা নাড়ে আরাফাত ।
কিছু না বলে প্রথমে আরেকটা সিগারেট ধরায় সাকিব যত্ন করে । তারপর মুখ তোলে ।
‘ওখানে এসব নিয়ে আলোচনা করা যাবে না । বিষয়টা স্পর্শকাতর ।’
পার্কের আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে হাসে এবার আরাফাত, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টদের নিয়ে হয়েছে এই সমস্যা তোদের । শালারা এটুকু বুঝিস না – আমাদের জন্য স্পর্শকাতর বলে কিছুই নেই । আমরাই স্পর্শ করি । যখন কেউ হয় কাতর । বুঝলি ?’
বাঁকা চোখে তাকায় সাকিব বন্ধুর দিকে ।
ছেলেটা মনে হচ্ছে আরেক বোতল ভদকা মেরেছে । শালার বাপের টাকা আছে বটে ।
মাত্র গত পরশু দেখেছে নিজের গার্লফ্রেন্ডকে তার বন্ধুর সাথে পাগলের মত চুমু খেতে ।
বোকা মেয়েটা গাড়ির কাচ তুলে দিতে ভুলে গেছিল । আরাফাত দেখে চলে এসেছে । কিছু বলেনি ।
যত কথা তার হয়েছে গত রাতে – একটা ভদকার বোতলের সাথে । সঙ্গ দিয়েছিল সাকিব ।
ভদকার বোতলকে মাঝরাতে যখন জীবনের কাহিনী শোনাচ্ছিল আরাফাত – কান পেতে শুনেছিল সাকিব ।
বেচারা আরাফাতের চৌদ্দ বছরের পুরাতন প্রেম যখন ব্যর্থতাতে ডুবে গেছে – সেখানে সাকিবের মোটেও দুঃখ পাচ্ছিল না ।
অদ্ভুত রকমের একটা কৌতুক অনুভব করছিল ও সবার প্রতি ।
এখন আরাফাতেরও তাই করার কথা । সেজন্য হাসির দমকে আকাশ এবং বাতাসের চোখের পানি বের করে দিচ্ছে মানুষটা ।
তাকে দোষ দেয় না সাকিব । তবে এখন ওর একজন ডাক্তারের সাথে ফ্র্যাংকলি কথা বলে দরকার । পরবর্তীতে সম্ভব হলে একজন মনরোগ বিশেষজ্ঞের সাথেও ।
‘দোস্ত, তোকে তো পুরাই পেরেশান লাগছে – মনে হয় ছ্যাঁকটা আমি না – তুই খাইছিস ।’ মুচকি হেসে বলে আরাফাত ।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে রোজিনার কথা বলতে শুরু করে সাকিব । ছেলেটা জানে না ।
তবে মাতালটাকে শুনিয়ে লাভ আছে কি না কে জানে ?
সব বলতে বলতে আবারও তীব্র ক্রোধ অনুভব করে সাকিব ।
শেষে যোগ করে দেয়, ‘তোর কাছে আমার দরকার এখানেই । একজন মানুষের পক্ষে কিভাবে সম্ভব একটা মেয়েকে খুন করে তার সাথে মিলিত হওয়া ? তারপরে তাকে কামড়ে মাংস ছিঁড়ে খাওয়া ?’
আরাফাতের মুখটা দেখার মত হয়েছে এবার, ‘খাওয়া ?’
আরেকটা সিগারেট বের করে সাকিব, আগেরটা থেকেই আগুন নিয়ে আগের ফিল্টারটুকু ফেলে দেয় মাটিতে ।
‘লাশের শরীরের চারপাশে পুলিশ কোন অংশই পায় নি । মেয়েটার ডান স্তন কামড়ে খেয়ে ফেলেছে খুনী । এমন কাজ নিশ্চয় বেশি মানুষ করবে না ? তোর কাছে তথ্যসাহায্য চাই । এরকম ঘটনা যত আছে জানাবি আমাকে ।’ হাত পেতে বসে আছে আরাফাত । নির্ঘাত একটা সিগারেট চাচ্ছে । 
ওর হাতে পুরো প্যাকেট তুলে দিতে ধীরে সুস্থে সিগারেট বের করে ও । তারপর কয়েকবার এদিক ওদিক ধোঁয়া ছেড়ে নিজেকে সুস্থির করার চেষ্টা করে ।
মাথার ভেতর ব্রেইনের চেয়ে বেশি কাজ করছে ভদকা !
বন্ধুর দিকে তাকায় আরাফাত, নিজেকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে । ‘নেক্রোফিলিয়া নিয়ে জানিস কিছু ?’
কাঁধ ঝাঁকায় সাকিব, ‘খুবই হাল্কা পাতলা । লাশের প্রতি আসক্তি টাইপ কিছু মনে হয় । না ?’
তিক্ত একটা হাসি দেয় আরাফাত এবার, ‘আসক্তি তো বটেই । যৌন-আসক্তি ।’
বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকে সাকিব তার দিকে ।
৫.
‘নেক্রোফিলিয়া । গ্রীক দুটো শব্দ থেকে এসেছে শব্দটা ।’ সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে আরাফাত, ‘নেক্রোল্যাগনিয়াও বলে একে । গ্রীক শব্দ নেক্রোস অর্থ – ডেড আর ফিলিয়া মানে ফ্রেন্ডশীপ বা লাভ । মানে মৃতের সাথে বন্ধুত্ব বা ভালোবাসা অনুভব করাকে নেক্রোফিলিয়া বলা চলে । তবে মূল অর্থ আলাদা । কোন মৃত মানুষের প্রতি সেক্সুয়াল অ্যাট্রাকশন হল নেক্রোফিলিয়ার মূল আলোচনার বিষয় ।’
এতক্ষণ বিমূঢ় হয়ে থাকা সাকিব চিন্তিত স্বরে না জিজ্ঞাসা করে পারে না, ‘নেক্রোফিলিয়া কি বেশ ছড়িয়ে গেছে নাকি এই সমাজে ? বাংলাদেশেও চলে এসেছে এর প্র্যাক্টিস ?’
‘কিভাবে বলি ?’ গা মুচড়ে বলে আরাফাত, ‘ঘটনা তো আজকে শুরু না । হেরেডোটাসকে চিনিস তো ?’
অবাক হয় সাকিব, ‘বিখ্যাত গ্রীক ইতিহাসবিদ তো ? ও ব্যাটাও লাশ নিয়ে এসব করত নাকি ?’
‘আরে ধ্যাত ! হেরোডটাস নেক্রোফিলিয়াক ছিলেন না । পুরোটা শোন না আগে ।’ বিরক্ত হয় আরাফাত বার বার বাঁধা পেয়ে, ‘হেরোডটাস যা বলেছেন – ফারাওদের আমল থেকে চলে আসছে এটা । বা তারও আগে থেকে । তবে নির্ঘাত মিশরীয় সভ্যতার সময় রেগুলার নেক্রোফিলিয়াকের অভাব ছিল না ।’
‘রেগুলার নেক্রোফিলিয়াক ?’, ধমক খেয়েও ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করে সাকিব ।
‘যারা নিয়মিত লাশদের সাথে দৈহিকভাবে মিলিত হয় – এদের রেগুলার নেক্রোফিলিয়াক বলি আমরা । দশভাবে নেক্রোফিলিয়াকদের ভাগ করা হয়েছে । সবচেয়ে ঝামেলার এই অংশটাই । এদের রোজ একটা করে লাশ দরকার । শালারা বিয়ে-শাদী করে শান্তিতে থাকবে – তা না – আছে লাশদের হোগামারার ধান্ধায় !’
আরাফাতের রেগে থাকা মুখের দিকে তাকায় সাকিব চিন্তিত ভঙ্গীতে ।
‘যাই হোক – যা বলছিলাম – ফারাওদের ক্ষেত্রে যেটা করা হত – সম্ভ্রান্ত মহিলাদের মৃত্যুর পর তিন চারদিন লাশটাকে পঁচিয়ে মমি বানাতে পাঠানো হত । জানিস তো – ওই সময় মমি করাটা ছিল প্রথা । যদি টাটকা মৃতদেহ এলবামাদের কাছে দেওয়া হত – তারা আগে সেই মহিলার মৃতদেহের ওপর চড়াও হত ; পরে মমি বানানো । বোঝা যায় এরা রীতিমত নেক্রোফিলিয়ার প্র্যাকটিস করত তখন । হেরোডটাস শুধু এলবামাদের দোষ দেন নি – গ্রেকোরোমান সম্রাটদের প্রতিও রেখে গেছেন একই অভিযোগ । তারাও শবদেহের সাথে মিলিত হওয়ার চর্চা করতেন ।’
সাকিবের শরীর কুঁচকে ওঠে, ‘সম্রাটরাও ?’
তিক্ত হাসিটা ধরে রাখে আরাফাত, ‘সম্রাটরাও । বাইজেন্টাইন সম্রাটরা তো আরও এক ধাপ এগিয়ে । ডাউন দ্য উইকেটে এসে ছক্কা মারা পাবলিক এরা । অন্য রাজ্যে হামলা করার পর তারা সেসব রাজ্যের রাজাদের হেরেম দখন করত নিঃসংকোচে । সেখানে থাকা মেয়েগুলোর রক্ত দিয়ে চৌবাচ্চা ভর্তি করে রক্তগুলো নিয়ে খেলত সম্রাট । তবে স্বীকার করতেই হবে, নেক্রোফিলিয়াকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে প্রাচীন মিশরীয়রা । এদের সম্ভ্রান্ত মহিলা আর সুন্দরী মেয়েদের মৃত্যুর পর ঘর থেকে লাশ বের করতেই কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হত । নাহলে পাপাচারী পুরোহিত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত লাশের সাথে সঙ্গম করে যেত ।’
‘মিশর থেকেই কি এসেছে নাকি এটা ?’ জানতে চায় সাকিব ।
‘ঠিক জানি না । পরে রোমেও দেখা যায় এর প্রচলন । রোমান সম্রাট হেরড ছিল আরেক চিজ । হাসমোনিয়ান রাজ্য দখল করে ধ্বংসযজ্ঞ তো এই লোক চালিয়েছিলই – তারওপর ধরে এনেছিল রাজকুমারী মারিআন্নিকে । জোর করে বিয়ে করেছিল মেয়েটাকে এই পিশাচ সম্রাট । বিয়ে তো নাম মাত্র । শয্যা সঙ্গিনী বানানো আর কি ! তবে মারিআন্নি রাজি হয় নি তাতে । প্রচন্ড ঘৃণা ছিল তার এই অত্যাচারী সম্রাটের প্রতি । রাজকুমারীর রাজ্য ভেঙ্গে এই লোকই তো তছনছ করেছিল । ঘৃণা থাকা তো অস্বাভাবিক না । ফলাফলটা ভালো হয় নি ।’
আরেকটা সিগারেট ধরায় সাকিব, ‘ফলাফল কি ?’
‘হেরড হত্যা করে মারিআন্নিকে । তবে ওটা কিছুই না । হেরডের এই অপকর্মের সবচেয়ে ট্রিকি পার্ট ছিল – রাসায়ানিকভাবে সে সাত বছর সংরক্ষণ করে মারিআন্নিকে । এই দীর্ঘ সাত বছর নিয়মিত হেরড যৌনকর্ম চালায় মৃতা মারিআন্নির শরীরে ওপর ।’
‘অদ্ভুত রকমের পাগলামী । তাদের কি উদ্দেশ্য ছিল এই রকম অপকর্মের পেছনে ?’
আরেকটা সিগারেট বের করে আরাফাতও, ‘যৌনতৃপ্তি আছে একটা কারণ । তবে পেরুতেও প্রচলন ছিল নেক্রোফিলিয়ার । সেখানে যারা এসবে ব্যস্ত ছিল তারা আবার আধ্যাত্মিক বিজ্ঞ । তাদের মতে, এতে করে মৃতের সাথে জীবিতের যোগাযোগ ঘটানো সম্ভব ! অনেক কারণ আছে অবশ্য - যদিও ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকাল ম্যানুয়াল অফ আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোশিয়েশন এই ধরণের যৌনকর্মকে প্যারাফিলিয়া বা অস্বাভাবিক যৌনমিলনে আখ্যায়িত করেছেন – কম তো আর হয় নি এরকম ঘটনা । পার্সেন্টিজ বাই কারণও বের করেছেন বিশেষজ্ঞরা । মিশরীয় আর রোমানদের ক্ষেত্রে বলা যায় ওটা শুধু মৃতদেহের প্রতি যৌন আসক্তির জন্যই এমনটা করা হয়েছে – ১৫% নেক্রোফিলিয়াক ওরকম কারণেই মৃতদেহের সাথে মিলিত হয় । ২১% লাশের সাথে সঙ্গম করে পুরোনো সম্পর্কের জের ধরে । মৃত গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডের প্রতি ভালোবাসা থেকে ।’
ভালোবাসার বহর দেখে নাক কুঁচকে ফেলে সাকিব । তার দিকে তাকিয়েই বোঝে আরাফাত, বিশ্বাস করছেনা এমন কাজও সম্ভব ।
‘ডাক্তার ভ্যান ক্যাসলের নাম তাহলে শুনিস নি । কলেরা আক্রান্ত এক রোগিনী মারিয়া । তার চিকিৎসা করতে নিয়োজিত ছিলেন ডাক্তার ক্যাসল । মেয়েটি সুন্দরী আর অসহায় । ডাক্তারবাবু তো ধুম করে প্রেমে পড়ে গেলেন । আর ওদিকে টুপ করে মরে গেল মারিয়া । ডাক্তার বাঁচানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারলেন না তাকে । এখন ডাক্তার আর কি করবেন ? আত্মা তো খাঁচাছাড়া হয়ে গেছে মেয়ের – তবে শরীরটা আছে নিজের কাছেই ।’ কাশে সাকিব, বিরক্ত হয়ে গেছে এক কাহিনী শুনতে শুনতে, ‘ডাক্তার মিলিত হলেন মারিয়ার সাথে – এই তো ?’
হাত নাড়ে আরাফাত, ‘আরে নাহ, ডাক্তার ক্যাসল মারিয়ার সমাধির ব্যবস্থা করে আসলেন । ফরমাল্ডিহাইড রেজিনের প্রলেপ দিয়ে মারিয়ার শরীর ঢেকে পচনশীল দেহের পচন রোধ করলেন তিনি । তারপর রোজ যেতেন মারিয়ার সমাধিতে । ওপরের ফলক সরিয়ে মিলিত হতেন মারিয়ার সাথে । এলাকাবাসী সন্দেহ করল । ফলে মেয়েটিকে কবর থেকে তুলে এনে নিজের ঘরে রাখলেন ডাক্তার ক্যাসল । এবার নববধূর গাউন পরানো প্রেমিকাকে প্রতিনিয়ত মোম আর পারফিউম দিয়ে অক্ষত রাখার চেষ্টা করতে থাকলেও ধীরে ধীরে পচন ধরে যায় মারিয়ার শরীরে । হাড্ডি আর পচে যাওয়া মাংস ছাড়া যখন কিছুই নেই মেয়েটির শরীরে – তখনও একটি টিউব ব্যবহার করে মিলিত হতে থাকলেন ডাক্তার – প্রতিবেশীরা গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পুলিশে খবর না দিলে হাড্ডিকেও ছাড়তেন না মনে হয় ডাক্তার ।’
মুখ কুঁচকে ফেলে সাকিব, ‘এইসব আখাউড়ার কথা বাদ দে । আমাকে বল কি কি কারণে মৃতার সাথে মিলিত হতে পারে একজন ছেলে ।’
হাত বাড়ায় আরাফাত য়াবার ।
‘দে আরেকটা সিগারেট ।’
৬.
আয়েশ করে সিগারেটটা ধরিয়ে কয়েকবার স্টীমের মত ধোঁয়া ছাড়ে আরাফাত । পার্কের এই জায়গাটা বেশ ছায়া ঘেরা ।
একবার দূরের রোদের দিকে তাকিয়ে আবার বলতে শুরু করে ও ।
‘কারণ জানতে চাইছিস তো – একটা আগেই বলেছিলাম । মৃতদেহের শরীরের প্রতি আসক্তি । এটা আসতে পারে – কোন মৃতদেহকে একবার নগ্ন দেখে ফেলার পর থেকে । ফ্যান্টাসীতে লাশের সাথে মিলিত হতে চায় সাবজেক্টের অবচেতন মন । তারপর একটা সময় যথেষ্ট সাহস সঞ্চয় করে মৃতদেহ যোগাড় করে তার প্র্যাক্টিস শুরু করে দেয় । মৃতদেহের তো আর প্রতিবাদের ক্ষমতা নেই । শরীর ঠিকই আছে । তবে সৌভাগ্যের কথা এতটা সাহস সবাই ধরে না । কেউ কেউ অবশ্য আরও বেশি সাহসী হয়ে ওঠে চর্চাতে । নতুন লাশ বানিয়ে নেয় তারা যাকে ভালো লাগে তার । মার্ডার এখানেই হয় । তারপর অনৈতিক ধর্ষণ ।’
জোরে সিগারেটে টান দেয় সাকিব, রোজিনার পরিণতি মনে পড়ে যাচ্ছে ।
‘পার্সেন্টিজ দিচ্ছিলি । বলে যা তো কারণগুলো । কোনটা কত শতাংশ ঘটে ?’
‘আরেকটা কারণ হল – পূর্বের শত্রুতা বা বিদ্বেষ থেকে বিপরীত লিঙ্গের কাওকে খুন করে ফেলার পর খুনীর মনে পরিপূর্ণ বিজয়ের তৃপ্তি আসে না । চরমভাবে লাশটিকে পরাস্ত প্রমাণ করার জন্য সঙ্গম করে থাকে কিছু কিছু খুনী । এধরণের কারণে হওয়া নেক্রোফিলিয়া হল ১২ শতাংশ ।’
চোখ সরু করে সাকিব, ‘আর ?’
‘স্বেচ্ছায় যৌনমিলনে রাজি হয় নি এমন সঙ্গীকে হত্যা করে তার সাথে মিলিত হওয়া । যেটা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হচ্ছে । ৬৮% ।’
দূরে তাকায় সাকিবও ।
রোজিনার বয়ফ্রেন্ড ছিল না । তার পিছে পায়রাদের মত উড়ে বেড়াত ভার্সিটির জনাপঞ্চাশেক ছেলে ।
তাদের সবাইকে সন্দেহের কাতারে ফেলা যায় এদিক থেকে । সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছে রোজিনা । সেক্স তো দূরের কথা – হাত ধরার ক্ষমতাও ছিল না এদের কারও ।
সেই প্রেমিকদের ভীরে কি কেউ ছিল না – যে রোজিনাকে পাওয়ার জন্য একটু বেশিই মরিয়া ?
যেই মানুষটা যে কোন মূল্যে রোজিনাকে পেতে চায় ? দরকার হলে মৃত্যুর পরও ?
মরে যাওয়ার পর তো আর একটা মেয়ের বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না !
তখন যা খুশি করা যায় তার সাথে । তবে কামড়ে শরীরের অংশ খেয়ে ফেলাটা একটু বেশি ভয়ংকর – সন্দেহ নেই ।
এই কাজ করতে পারে এমন মানুষ কয়জন আছে ? এদের আইডেন্টিফাই করতে হবে ।
আরেকটি কথা মাথাতে আসতে খুশি হয়ে যায় সাকিব ।
লোকেশন ।
মার্ডার লোকেশন !
রোজিনা খুন হয়েছে রাতের বেলাতে । বিশাল পার্কের মাঝে ।
তার মানে এখানে সে এসেছিল কারও সাথে । কিন্তু একটি মেয়ে নিশ্চয় ভার্সিটির সবার সাথে রাত দুটোতে পার্কে দেখা করবে না ?
তারমানে খুঁজে বের করতে হবে তাদের – যাদের সাথে রোজিনার অন্তরঙ্গতা ছিল । বন্ধুত্ব হোক আর ক্লাসমেট হিসেবেই হোক – রোজিনাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন চরিত্রগুলোকে বের করতে হবে ।
তারপর তাদের একজন একজন করে লক্ষ্য রেখে বুঝতে হবে কার মাঝে এরকম অপরাধ করা আসলেই সম্ভব ।
শর্টলিস্ট আরও ছোট করে এক বা দুইজনে আনতে হবে পঞ্চাশজনের সন্দেহভাজনের লিস্ট । তারপর এদের বিরুদ্ধে প্রমাণ যোগাড় করার চেষ্টা করতে হবে । সব কিছু ঠিকঠাক করতে পারলে ধরা পড়বে রোজিনার খুনী ।
‘আরাফাত, একটা ব্যাপার ভাবলাম ।’, বন্ধুর দিকে তাকায় সাকিব, ‘নেক্রোফিলিয়াক কি শুধু ছেলেই হয় না মেয়েরাও হতে পারে ?’
‘মেয়েরাও হতে পারে ।’ মাথা দোলায় আরাফাত ।
‘কিভাবে ?’
‘লাশের সাথে সেক্সুয়াল অ্যাট্রাকশন মানে শুধু লাশের সাথে যৌনমিলন ঘটানো না । চুমু খাওয়া, আবেগঘন স্পর্শও পড়ে এর মাঝে । তবে পুরুষ নেক্রোফিলিয়াকের সংখ্যাই বেশি । এদের বয়েস বিশ থেকে পঞ্চাশের মাঝে হয়ে থাকে । আর এরা টপ টু বটম যা করা সম্ভব তাই করে ।’
ভার্সিটির ছেলেগুলোর বয়েস বিশ থেকে পঞ্চাশের মাঝেই পড়ে । সমবয়েসী সব ।
এভাবে লিস্ট ছোট করা সম্ভব না । দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাকিব ।
‘প্রাণিদের মাঝেও আছে নেক্রোফিলিয়া । যৌনসঙ্গীকে খেয়ে ফেলে কিছু প্রজাতি – শুনেছিস না ? আবার মৃতদের সাথেও আগ্রহ প্রকাশ করে অনেক পশু এবং পাখি । ম্যালার্ড হাঁসেদের মাঝে সর্বপ্রথম এটা দেখা গেছিল ...’ সাকিবের দৃষ্টি চোখে পড়তে নিজের ভুল বুঝতে পারে আরাফাত, ‘সরি, এখন তোর এসব শোনার মুড না হওয়ার কথা । মেয়েটার খুনীকে বের করাটা কিন্তু কঠিন হবে না । ঠিকভাবে চিন্তা কর । আমার তো ভদকা খাওয়া ব্রেইন রে এখন !’ ওর দিকে কৌতুহল নিয়ে তাকায় এবার সাকিব, ‘কোন আইডিয়া আছে নাকি তোর ?’ মাথা চুলকায় আরাফাত, ‘খুনীর স্পার্ম পাওয়া গেছে না ?’
‘কোথায় ?’
ভর্ৎসনার দৃষ্টিতে তাকায় আরাফাত, ‘যেখানে পাওয়ার কথা ।’
মাথা ঝাঁকায় সাকিব, ‘ও হ্যাঁ । তো ?’
‘ডিএনএ তো এখানেই পেয়ে গেছিস । এখন যে ব্যাটার ওপর সন্দেহ হচ্ছে – তার চুল ছিড়ে নিয়ে যাবি শুধু । মিলিয়ে নিস । দরকার হলে বিশ ত্রিশ জনের চুলই খুলে আন না ? শুনে তো মনে হয় ভার্সিটির বাইরে কেউ কিছু এই কাজ করে নি ।’ উঠে দাঁড়ায় সাকিব । 
কথাটা আরাফাত মন্দ বলেনি ।
তবে আগে ওকে একটা শর্টলিস্ট বের করতে হবে ।
৭.
সামনের কাগজে পনেরটা নাম ।
এরা সবাই মোটামুটি পাগল ছিল রোজিনার প্রতি । গত তিন বছর থেকে ।
ভার্সিটিতে রোজিনা ঢোকার পর থেকেই লাইন দিয়ে সিনিয়র জুনিয়র ভেদাভেদ না করে প্রেমে পড়ার একটা প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গেছিল ।
কেউ প্রেমে পড়ছিল ভাবুক হয়ে – কেউ ঈর্ষাতে । সব মিলিয়ে প্রচুর মানুষকে এই প্রেমিক লিস্টে ফেলা যায় ।
অনেকগুলো নাম বাদ দিতে পেরেছে সাকিব সৌভাগ্যক্রমে ।
এরা সবাই পরবর্তীতে মিইয়ে গেছিল ।
লিস্টে এখন জ্বল জ্বল করছে মাত্র পনেরটা নাম । এরা প্রত্যেকে এখনও সিরিয়াস ।
গত সপ্তাহে নিয়াজ আর শুভ একে অন্যের সাথে ক্যাফেটেরিয়াতে রোজিনাকে কেন্দ্র করে মারামারি করেছে পর্যন্ত ।
নিয়াজের হাত পরে শুভ ভেঙ্গে দিয়েছে । ছেলেটা প্লাস্টার করা হাত নিয়ে ফুঁসে বেড়াচ্ছে ক্যাম্পাসে । পরের সুযোগে শুভর হাত ভাঙ্গা হবে এটা অনেকেই নিশ্চিত । তবে শুভ নির্বিকার ।
পাগলা প্রেমিক ।
এবং রোজিনা এদের কাওকেই পাত্তা দেয় না ।
কাজেই স্বাভাবিক – রোজিনার ওপর একটা ক্রোধ কাজ করতেই পারে তাদের ।
হাত ভাঙ্গা নিয়াজের দিকে আরেকটু মনোযোগ দিতে হবে – ভাবে সাকিব । ছেলেটা হারিয়েইছে শুধু রোজিনার জন্য । পায় নি কিছু ।
এ ব্যাপারে কথা বলা যেতে পারে প্রেম নিরপেক্ষ রিয়াদের সাথে ।
রিয়াদ সাকিবের পুরাতন বন্ধু । ওরা দুইজনই বাকিদের সাথে স্রোতে ভেসে যায় নি ।
নিশা-রোজিনা বন্ধুজুটিকে ওরা সম্মান দিয়েছিল মানুষের । মেয়ে হিসেবে না । মানুষ হিসেবে ওদের দুইজনকে প্রথম কেউ দেখছে – জেনেই প্রথমবারের মত নিশা দুর্বল হতে শুরু করে সাকিবের প্রতি ।
রোজিনার কি রিয়াদের জন্য দুর্বলতা এসেছিল ? তা জানা যায় নি ।
তবে ওরা ভালো বন্ধু ছিল ।
প্রথমেই ল্যাপটপে চালিয়ে রাখা ফেসবুক ডট কমের সার্চে গিয়ে রিয়াদের অ্যাকাউন্টটা বের করে । এখানে পাওয়া গেলে ভালো ।
সাকিবের ফোনকলে কথা বলতে ভালো লাগে না ।
রিয়াদের স্ট্যাটাস দেখে অবশ্য মোবাইল তুলে নিতেই হয় ।
স্ট্যাটাস দিয়েছে ছেলেটাঃ Lost everything with you …. Quitting everything … :’(
রিয়াদের ফোন নাম্বারটা খুঁজে ডায়াল করে সাকিব । ছেলেটা নিশ্চয় মুষড়ে আছে ?
এতক্ষণ ওর জেনে যাওয়ার কথা সব ।
রিং হল না । ফোনটা বন্ধ ।
মোবাইল ডেস্কে রাখতে চায় সাকিব - তবে রাখার আগেই আবার বেজে ওঠে ওটা ।
একবার তাকিয়েই রিসিভ করে ও, নিশার কল ।
‘দরজাটা খুলবেন ? বাইরে দাঁড়িয়ে আছি । ওইদিনের মত কলিংবেল ভাঙ্গার দরকার আছে ?’
নিশা রীতিমত অধৈর্য্যের মত বলে ।
উঠে দাঁড়ায় সাকিব । অনেকক্ষণ ধরে বসে আছে । পিঠের পেশিগুলো ব্যাথাতে টন টন করছে ।
দরজার দিকে যায় খুলে দিতে ।
নিশা এই অসময়ে কেন ? রাত নয়টা বাজে ।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু পেয়েছে কি ?
দরজা খুলে দিতেই ঢুকে পড়ে নিশা । চোখে মুখে অসন্তোষ ।
প্রথমেই বলে ও, ‘খুনী একটা বড় ভুল করেছে, সাকিব । সম্ভবতঃ বিষয়টা সে জানত না ।’
দরজাতে দাঁড়িয়ে প্রথম বাক্য এটা বলা স্বাভাবিক কি না জানে না সাকিব । সেটা নিয়ে মাথাও ঘামায় না ।
জানতে চায় দ্রুত, ‘সেটা কি ?’
‘রোজিনার অভ্যাস । ডায়েরী লেখত মেয়েটা ।’
মাথা নাড়ে সাকিব ।
ঠিক বুঝতে পারছে না । প্রায় সব মেয়েই এই কাজটি করে ।
একটা লাইন কিছু লেখুক আর না লেখুক – নিজের ডায়েরী লেখার বেলাতে আছে ।
তাতে খুনীর পরিচয় কিভাবে বের হচ্ছে ?
‘রোজিনার বাসাতে গেছিলাম আজ বিকেলে । ওর রুম থেকে খুঁজে লুকিয়ে রাখা ডায়েরী বের করেছি । আগেই তোমার কাছে আসতাম । দেরী হল – পুরোটা পড়তে সময় লেগেছে ।’ ব্যাগ থেকে বের করে ওর হাতে ডায়েরীটা তুলে দেয় নিশা ।
হাতে নেয় ওটা সাকিব । 
পড়তে হয় না অবশ্য ওকে । নিশা মুখেই বলে দেয়, ‘রিয়াদের সাথে রোজিনার রিলেশন ছিল গত তিনমাস ধরে । লুকিয়ে রেখেছিল ওরা । তবুও কাওকে বলেনি রিয়াদ একথা । এমনকী রোজিনার মৃত্যুর পরেও না ।’ ‘এতে প্রমাণ হয় না খুনটা রিয়াদের করা !’ ধমকের সুরে বলে সাকিব ।
আজকাল ফ্রেন্ডসার্কেলের মাঝে রিলেশন হলে জানাতে চায় না অনেকেই । জটিলতা বাড়ে এতে । তারা প্রস্তুত হওয়ার আগে পর্যন্ত লুকিয়ে রাখতেই চায় ।
তবে রিয়াদ জানাতেই পারত । রোজিনাও – ভাবে সাকিব । ওদের রিলেশন হলে তারা সবচেয়ে বেশি খুশি হত না ?
থমকে যায় ওর চিন্তার গাড়ি ।
তিন মাস আগের রোজিনার লেখাতে চোখ আটকে গেছে ।
কিছু কিছু বাক্যাংশের ওপর চোখ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় ওর ।
‘... রিয়াদটা যে কি – ওদের জানালে কি হয় ? ...’
‘... আজ আরেকটু হলেই নিশাকে বলে ফেলেছিলাম রিয়াদের কথা – শেষ মুহূর্তে থামিয়েছি । কেন যে রিয়াদ চায় না ওরা জানুক ...’
‘...রিয়াদকে আজ আপন করে নিতে চেয়েছিলাম – ছেলেটা রাজি হয় নি – বিশ্বাস বাড়ল আমার ...’
‘...আজ অবশ্য জানপাখিটা বলেছে কেন ও চায় না নিশা-সাকিবকে আমাদের কথা জানাতে – সাকিব চায় নি সার্কেলের মাঝে আমার রিয়াদ কোন রিলেশনে জড়াক...’
শেষ লেখাটা চারদিন আগের ।
‘...রিয়াদ নিজে থেকে ডেকেছে বিশ্বাসই করতে পারছি না । ছেলেটা কি কুমারব্রত ভাঙ্গতে চলল ? ... আর মাত্র তিনটা রাত কষ্ট করে পার করতে হবে ... ইশ – অপেক্ষার সময় এত দীর্ঘ কেন ?...
’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাকিব । সন্দেহের অবকাশ নেই ।
খুনটা করেছিল রিয়াদই ।
৮.
শুন্য গ্যারেজে দাঁড়িয়ে আছে সাকিব । বার বার হাত ঘষে নিজের দুই হাতের সাথে ।
ঠান্ডা লাগছে – তা না ।
তবে , উত্তেজনা বোধ করছে ।
এখানেই আসবে রিয়াদ । শালা ফেসবুকের পাগলা অ্যাডিক্ট ।
এক আইডি দিয়ে 'ফিলিং ডাউন' লেখলে আরেক আইডি দিয়ে চোরের মত ঘুরে বেড়ানো স্বভাব । রিয়াদের দ্বিতীয় আইডিটার ব্যাপারে আগে থেকেই জানে সাকিব ।
ওতে টোকা দিয়ে শুধু একটা কথাই বলেছে – লাফিয়ে চলে আসবে রিয়াদ – সেটা জানে ।
ও বলেছিল, “নিশা এখন আমাকে বলল ও নাকি তোর প্রতি দুর্বল ! রোজিনার ঘটনার পর ওর মাথা কি খারাপ হয়ে গেল নাকি ? নীড ইয়োর হেল্প দোস্ত !”
আরেকটি শিকার হাতে তুলে দিচ্ছে সাকিব – এর পরও কি রিয়াদের মত নেক্রোফিলিয়াক আসবে না দেখা করতে ?
রিপ্লাই পেয়েছে প্রায় সাথে সাথেই, “কি কস ? কই আসব ক । ওকে ম্যানেজ করা যাবে । বেচারি শক খাইছে । তুই ভাবিস না ঠিক হয়ে যাবে সব ।”
ভাবে নি সাকিব । একটা আড়াই ফুট লম্বা রড জামার নিচে লুকিয়ে চলে এসেছে গ্যারাজে ।
দূর থেকে কারও পায়ের শব্দ শোনা যায় । নিস্তব্ধ গ্যারেজে শব্দটা বেশি কানে বাজে ।
আসছে রিয়াদ !
বাসাটা নতুন বানাচ্ছে জামিলরা । ওদেরই জমি ।
তবে বেচারাদের ফান্ড শেষ অর্ধেক কাজ হতে । এখানে গ্যারেজ ছাড়া কিছুই নেই । ওপরে শুধু রড আর সিমেন্ট । নিখুঁত কাঠামো দিতে এখনও কোটি টাকার প্রয়োজন জামিলের বাবার । সেটা ম্যানেজ করতে তিনি ব্যস্ত ।
এই ফাঁকে এখানে রিয়াদকে ম্যানেজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাকিব ।
শুধু ওকে একটু নিশ্চিত হতে হবে কাজটা রিয়াদেরই করা কি না ।
‘দোস্ত ? ঠিক আছিস তো ?’ কাছে এসে ব্যস্ত হয়ে জানতে চায় রিয়াদ ।
শালার অভিনেতা বটে ! মাত্র চব্বিশ ঘন্টা আগে একটা লাশের সাথে যতরকম অকাজ করা যায় করেছে – এখন আছে স্বাভাবিক মুখে !
পিত্তি জ্বলে যায় সাকিবের । রোজিনার শরীরের দশা কেমন ছিল মনে পড়ে যাচ্ছে ! তীব্র একটা ক্রোধ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে ওর ।
তিন পা পিছিয়ে গেল কেন – সেটা বোঝার চেষ্টা করতে থাকে রিয়াদ ।
তারপরই চোখে পড়ে সাকিবের হাতের রডটা । এবং অনুভব করে ঠোঁটের পাশে কেটে যাওয়া ক্ষতটাকে ।
এক মুহূর্ত পর গল গল করে রক্ত নেমে আসে । রডটা নিখুঁত না । ধারগুলো চোখা ।
ওখানেই কেটেছে ।
তীব্র বিস্ময় আচ্ছন্ন করে রিয়াদকে, ‘মারলি কেন ? কি করেছি আমি -’
দড়াম করে আরেকটা আঘাত করে সাকিব – এবার মাটিতে ছিটকে পড়ে রিয়াদ ।
রোজিনাকে এই হতচ্ছাড়াই খুন করেছিল । একে ছাড়া যাবে না ।
রিয়াদ কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল যন্ত্রণাকাতর মুখে । রডটা তুলে এবার ওর মুখের ওপর নামিয়ে আনে সাকিব ।
মুখ খোলাই থাকল – সাকিবের শক্তিশালী হাতের শেষমাথাতে ধরা রডটা এতটাই জোরে আঘাত হাতে রিয়াদের মাথাতে – ছিটকে একটা চোখ বের হয়ে খোলা মেঝেতে গড়িয়ে পড়ে !
ভোঁতা একটা শব্দ করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে রিয়াদের প্রাণহীন দেহটা ।
লাথি দিয়ে দেখে সাকিব ।
শালা শেষ !
_ পরিশিষ্ট _
মৃতদেহটা দেখে হঠাৎ আবছা আবছা স্মৃতি ভেসে ওঠে সাকিবের মনে ।
অবচেতন মনেই রিয়াদের শার্টটা টেনে হিঁচড়ে খুলে ফেলে ।
তারপর তুলে নিয়ে যেতে থাকে রিয়াদের দেহটা । ইটের স্তুপ আছে একটা – তার ওপর উল্টো করে ফেলে ও রিয়াদকে ।
এভাবে কার লাশ যেন নিয়ে গেছিল ও ?
চেষ্টা করেও মনে করতে পারে না সাকিব ।
কেন জানি রিয়াদের দেহটা ওকে টানছে । মাথা থেকে রক্ত গড়িয়ে এসেছে আগেই ওখানে হাতের আঙুল ভেজায় সাকিব ।
অন্য হাত দিয়ে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে ফেলে রিয়াদকে ।
অথবা তার মৃতদেহকে ।
সব মনে পড়েছে ওর এখন । তবে মোটেও খারাপ লাগছে না সেটা ।
রোজিনা তো জানত ও নিশার বয়ফ্রেন্ড । বন্ধুত্বের বেশি কি আর নেওয়া যেত রোজিনার সাথে সম্পর্কটা ?
যেত না ।
কাজেই রিয়াদ যখন জানিয়েছিল রোজিনার সাথে নিভৃতে দেখা করতে যাওয়ার কথা কবে - সুযোগটা নেয় সাকিব । আগে থেকেই ফলো করে ওদের । রিয়াদ চলে যেতে ফোন দিয়ে ডাকে ও রোজিনাকে । সাকিবের চেয়ে বেশি আর কাকে বিশ্বাস করে মেয়েটা ?
সরল বিশ্বাসেই উঠেছিল ও গাড়িতে ।
পার্কের দূরের কোণে এনে যখন রড দিয়ে প্রথম বাড়িটা দেয় সাকিব – কিভাবে জানি বের হয়ে পালিয়ে যায় হতচ্ছাড়া মেয়েটা । পরে তাকে পেয়েছে সাকিব – আগের প্ল্যান ধরেই আগায় ও । মেয়েটা নিশ্চয় বলে দিত সবাইকে বেঁচে থাকলে ?
তাই মেরে ফেলতে হয়েছে শুরুতে ।
রোজিনার দেহটার প্রতি ওর কম দিনের লোভ না । সেটা মেটানো গেছে ।
মেয়েটার শরীরের স্বাদ একেবারেই ঢেঁরসের মত । কাঁচামাংস বলে এমন মনে হয়েছিল নাকি ? ফিরে আসতে না আসতেই আরাফাত ভদকার বোতল নিয়ে হাজির ।
ওটার প্রভাবে সব ভুলে গেছিল সাকিব সকাল নাগাদই ।
সারাদিন অযথাই রোজিনার খুনীকে খুঁজেছে । এখন সব মনে পড়ে যাওয়াতে নেক্রোফিলিয়াকে তো খুব খারাপ কিছু অবশ্য মনে হচ্ছে না !
বরং রিয়াদের দেহটা তীব্রভাবে টানছে ওকে !
এই ছেলেই রোজিনাকে জিতেছিল – সাকিব নয় ।
সাকিবকে জোর করতে হয়েছে ।
তীব্র ক্রোধ জমা হয় সাকিবের মুখে ।
আরাফাতের কথাটা কানে বাজে ওর আরেকবার, ‘পূর্বের শত্রুতা বা বিদ্বেষ থেকে কাওকে খুন করে ফেলার পর খুনীর মনে পরিপূর্ণ বিজয়ের তৃপ্তি আসে না । চরমভাবে লাশটিকে পরাস্ত প্রমাণ করার জন্য সঙ্গম করে থাকে কিছু কিছু খুনী । এধরণের কারণে হওয়া নেক্রোফিলিয়া হল ১২ শতাংশ ।’
নিজে নিজে দুইবার আউড়ায় সাকিব, ‘আমি সমকামী না । নেক্রোফিলিয়াক আমি সমকামী ।’
নির্জন গ্যারেজে দাঁড়িয়ে প্যান্টের বেল্টে হাত দেয় সাকিব । 

Comments

Popular posts from this blog

গোয়েন্দা গল্প: বুড়ো

নিখোঁজ

সিরিঞ্জ