Posts

ক্রাইমস্টোরিঃ নেক্রোফিলিয়াক পর্ব-১

Image
ঘাড়ের ওপর দিয়ে তাকায় রোজিনা । ও কি পিশাচটাকে ফাঁকি দিতে পেরেছে ? কাঁধের ওপর থেকে রক্তের ধারা নেমে এসেছে বুকের ওপর – সেদিকে চোখ পড়তে ফুঁপিয়ে ওঠে মেয়েটা । রক্তক্ষরণে শরীর দুর্বল হয়ে এসেছে । শরীরে যতটুকু শক্তি অবশিষ্ট আছে – মনের ভেতরে ততটুকুও নেই । আড়ষ্ট হয়ে উঠেছে বাম কাঁধ – ওটা নড়াতে চেষ্টা করে অযথাই – একচুল নড়ানো যায় না ওটাকে । এভাবেই ছুটছে সেই কখন থেকে হাঁচড়ে পাঁচড়ে ! ছুটে আসছে পেছন থেকে মৃত্যুদূত । থামার উপায় নেই । বিশাল পার্কটা ওকে পার হতে হবে – ভাবতেই সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে ওর । ছেলেটাকে এতটা বিশ্বাস করা মোটেও ঠিক হয় নি – মোটেও না ! অন্ধকারে ভয়ার্ত মুখটাকে আরও সাদাটে লাগে এখন । ঝোপঝাড়ে খস খস শব্দ হচ্ছে কোথাও কাছেই – আৎকে ওঠে রোজিনা । চলে এসেছে ? ভারী একটা শরীর যখন আড়াল থেকে একেবারেই হঠাৎ লাফিয়ে পড়ে ওর কাঁধে – তারপর নিমেষে চেপে ধরে মুখ – কিছুই করার থাকে না রোজিনার । প্রচন্ড ধাক্কাতে ছিটকে মাটিতে পড়ে গেছে ও, শরীর কাঁপছে অতিরিক্ত পরিশ্রমে । ওর ওপর চেপে বসেছে পিশাচটা । মুখে চেপে ধরে রেখেছে এক হাত দিয়ে । অন্য হাতে খুলছে প্যান্টের বেল্ট । ছেলেটার উদ্দেশ্য একটু আগেই জে...

সাইকো

Image
আশির গোড়ার দিকের কথা। আমার মত একা মানুষ সারা বাংলাদেশে ছিল না। একটা বাড়ির সিঁড়িঘরে ত্রিশ টাকা ভাড়া দিয়ে থাকতাম। একটা সামান্য কোম্পানিতে টাইপিস্টের কাজ করতাম। তিন বছর আগেই বাবা-মাকে হারিয়েছিলাম। ভাই বোনছিল না। তেমন একটা বন্ধু বান্ধবওনা। যা বেতন পেতাম তা দিয়েই চলত। মাসে একবার ভালো-মন্দ খেতাম আর প্রতি দুই সপ্তাহ পর সিনেমা হলে যেতাম। একেবারে খারাপ না। এরই মধ্যে একদিন একটা পত্র পেলাম। প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। পুরো বাংলাদেশে আমাকে পত্র লেখার কেউ আছে বলে মনে পড়ছিলনা। আমেনা নামে আমার দূর সম্পর্কের এক খালা লিখেছেন, '' বাবা। দোয়া নিও। দিনকাল কেমন যাইতেছে? গতকাল এক পরিচিতের নিকট তোমার সম্পর্কে জানিতে পারিলাম। মন অত্যাধিক খারাপ হইল। তোমার মা নিশ্চয় আমার গল্প করেছেন। তোমার জন্য কিছু একটা করবার ইচ্ছা হইল। আশা করিব পত্রপাঠ আমার এখানে চলে আসিবে। খালার কাছে ভালোই থাকিবে- এ আশ্বাস দিতে পারি...।'' আমেনা নামে কোন খালার নাম মনে করতে পারছিলাম না। তবুও একদিন আমার যাবতীয় সম্বল একটা ব্যাগে ভরে সিলেটের ট্রেনে উঠে পড়লাম। খালা এবং তাঁর বাড়ি বেশ লাগল। খালার কেউ নেই। বিশাল বাড়ি। এ...

কালো চোখ

Image
সময়টা জুলাইয়ের শেষের দিকে। প্রচন্ড গরম পড়ছে, বিদ্যুৎ এক ঘন্টা থাকে তো দু'ঘন্টা থাকে না। মাঝে মাঝে বাতাস বন্ধ থাকায় থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। রাত প্রায় দু'টো বেজে গেছে। ঘুম ও আসছে না গরমে। বাহিরে ভরা পুর্ণিমার আলো। আজ বৃহস্পতিবার, আর এই দিনটা অনেকটা ঈদের মত মেডিকেল ছাত্র-ছাত্রিদের কাছে। অনেক দুরে দাঁড়িয়ে থাকা দৈত্যের মত হাসপাতালের ওয়ার্ড গুলোতে দু'একটা বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে। অবশ্য হাসপাতালে দু'টো বিদ্যুতের লাইন দেওয়া আছে। একটায় বিদ্যুৎ না থাকলে ও অন্যটায় থাকে। চারপাশের নীরবতার মাঝেও একটানা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, আর তার সাথে হোস্টেলের পাশের রেইনট্রি গাছগুলোতে মাঝে মাঝে পাখির কিচিরমিচির শব্দ তো আছেই। নারিকেলের পাতাগুলো ঝিম মেরে একে অপরের গায়ে ঘুমিয়ে পড়েছে বোধহয়, বাতাস আসলে আবার মরমর ধ্বনির ছন্দে ছন্দে জেগে উঠবে। মাঝে মাঝে অনেক দুর থেকে দু'একটা কুকুরের ডাক, হাইওয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়া রাতের বাস গুলোর শোঁ শোঁ শব্দ পরিবেশটাকে আরো চমৎকার করে তুলেছে। আর মাঝে মাঝে এম্বুলেন্সের আওয়াজ, নাইট গার্ডের বাঁশির শব্দ তো আছেই। আমি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র। এতক্ষণ ধরে হো...

যদু ডাক্তারের পেশেন্ট

Image
ক্যালকাটা ফিজিসার্জিক ক্লাবের সাপ্তাহিক সান্ধ্য বৈঠক বসেছে। আজ বক্তৃতা দিলেন ডাক্তার হরিশ চাকলাদার, এম ডি, এল আর সি পি, এম এম আর সি এস। মৃত্যুর লক্ষণ সম্বন্ধে তিনি অনেকক্ষণ ধরে অনেক কথা বললেন। চার পাঁচ ঘণ্টা শ্বাস রোধের পরেও আবার নিশ্বাস পড়ে, ফাঁসির পরেও কিছুক্ষণ হৃৎস্পন্দন চলতে থাকে, দুই হাত দুই পা কাটা গেলেও এবং দেহের অর্ধেক রক্ত বেরিয়ে গেলেও মানুষ বাঁচতে পারে, ইত্যাদি। অতেব রাইগার মর্টিস না হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ দ্বিজেন্দ্রলালের ভাষায় কুঁকড়ে আড়ষ্ট হয়ে না গেলে একেবারে নিঃসন্দেহ হওয়া যায় না। বক্তৃতা শেষ হলে যথারীতি ধন্যবাদ দেওয়া হল, কেউ কেউ নানা রকম মন্তব্যও করলেন। বক্তার সহপাঠী ক্যাপ্টেন বেণী দত্ত বললেন, ওহে হরিশ, তুমি বড্ড হাতে রেখে বলছ। আসল কথা হচ্ছে, ধড় থেকে মুণ্ডু আলাদা না হলে নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। শিবপুরের দশরথ কুণ্ডুর কথা শোন নি বুঝি? বুড়ো হাড় কঞ্জুস, অগাধ টাকা, মরবার নামটি নেই। ছেলে রামচাঁদ হতাশ হয়ে পড়ল। অবশেষে একদিন বুড়ো মুখ থুবড়ে পড়ে গেল, নিশ্বাস বন্ধ হল, নাড়ী থামল, শরীর হিম হয়ে সিঁটকে গেল। ডাক্তার বললে, আর ভাবনা নেই রামচাঁদ, তোমার বাবা নিতান্তই মরেছেন। রামচাঁদ ঘটা কর...

বছর-পঞ্চাশ পূর্বের একটা কাহিনী

Image
ঠ্যাঙাড়ের কথা শুনেছে অনেকে এবং আমাদের মত যারা বুড়ো তারা দেখেচেও অনেকে। পঞ্চাশ-ষাট বছর আগেও পশ্চিম বাঙলায়, অর্থাৎ হুগলি বর্ধমান প্রভৃতি জেলায় এদের উপদ্রব ছিল খুব বেশি। তারও আগে, অর্থাৎ ঠাকুরমাদের যুগে, শুনেচি, লোকচলাচলের প্রায় কোন পথই সন্ধ্যার পরে পথিকের পক্ষে নিরাপদ ছিল না। এই দুর্বৃত্তরা ছিল যেমন লোভী তেমনি নির্দয়। দল বেঁধে পথের ধারে ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকত, হাতে থাকত বড় বড় লাঠি এবং কাঁচা বাঁশের ভারী ছোট ছোট খেঁটে, তাকে বলত পাবড়া। পথিক চলে গেলে তার পা লক্ষ্য করে পিছন থেকে ছুঁড়ে মারত সেই পাবড়া। অব্যর্থ তার সন্ধান| অতর্কিতে পায়ে চোট খেয়ে সে যখন পথের উপর মুখ থুবড়ে পড়ত, তখন সকলে ছুটে এসে দুমদাম লাঠি মেরে তার জীবন শেষ করত| এর ভাবা-চিন্তা বাছবিচার নেই| এদের হাতে প্রাণ দিয়েছে এমন অনেক লোককে আমি নিজের চোখেই দেখেচি। ছেলেবেলায় আমার মাছধরার বাতিক ছিল খুব বেশি| অবশ্য মস্ত ব্যাপার নয়, --পুঁটি, চ্যালা প্রভৃতি ছোট ছোট মাছ| ভোর না হতেই ছিপ হাতে নদীতে গিয়ে হাজির হতাম| আমাদের গ্রামের প্রান্তে হাজা মজা ক্ষুদ্র নদী, কোথাও কোমরের বেশি জল নেই, সমস্তই শৈবালে সমাচ্ছন্ন -- তার মাঝে মাঝে যেখানে একটু ফাঁক সে...

বোহেমিয়ার কুৎসা-কাহিনি

Image
শার্লক হোমসের চোখে তিনিই নাকি একমাত্র ‘মহিলা’ পদবাচ্য স্ত্রীলোক। তার মানে এই নয় যে মেয়েটির প্রতি দুর্বলতা ছিল হোমসের। মন যার ঘড়ির কাটার মতো সুসংযত, কোনো ভাবাবেগ সেখানে ঠাঁই পায় না। হিসেবি মন আর তীক্ষ্ণদৃষ্টির একটা যন্ত্র বললেই চলে তাকে। ভাবালুতার কোনো দামই নেই তার কাছে— বিচারশক্তি নাকি ঘুলিয়ে যায় এসব দুর্বলতাকে প্রশ্রয় দিলে, তা সত্ত্বেও আইরিন অ্যাডলারকে শ্রেষ্ঠ মহিলার সিংহাসনে বসিয়েছিল র্শালক হোমস। বিয়ের পর থেকেই হোমসের সঙ্গে যোগাযোগ কমে এসেছিল আমার। নিজের সংসার আর আলাদা ঘর নিয়েই তখন আমি মশগুল। হোমস সামাজিকতার ধার ধারে না। বেকার স্ট্রিটের ডেরায় রাশি রাশি বই; গোয়েন্দাগিরি আর কোকেনের নেশা নিয়ে সে রইল সম্পূর্ণ আলাদা জগতে। মাঝে মাঝে খবরের কাগজে চোখে পড়ত তার চমকপ্রদ কীর্তিকাহিনির সংবাদ। নতুন করে ডাক্তারি শুরু করার পর একদিন রাত্রে রুগি দেখে বাড়ি ফিরছি (২০।৩। ১৮৮৮) বেকার স্ট্রিট দিয়ে, এমন সময়ে চোখে পড়ল ওপরের ঘরে দ্রুত পায়চারি করছে হোমস। পর্দার গায়ে দু-বার ছায়া পড়ল তার লম্বা রোগা শরীরের। দেখলাম মাথা বুকের ওপর ঝুঁকে রয়েছে, দু-হাত পেছনে। অর্থাৎ কোকেনের নেশাকাটিয়ে উ...

লাল-চুলো সংঘ

Image
গত বছর শার্লক হোমসের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম শরৎকালে। লাল-চুলো মোটাসোটা এক ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলছিল হোমস। শুধু লালই নয়। আগুনের মতোই জ্বলজ্বলে চুলের বাহার দেখবার মতো। হঠাৎ ঢুকে পড়ার জন্যে ক্ষমা চেয়ে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছি, হোমস আমাকে টেনে নিয়ে গেল ভেতরে। বললাম, ‘পাশের ঘরে বসি ?’ ‘না।— মি. উইলসন, ডক্টর ওয়াটসন আমার সহযোগী। একে দিয়ে আপনারও কাজ হবে।’ ভদ্রলোকের চর্বি-ঘেরা কুতকুতে চোখে কৌতুহলের রোশনাই দেখা গেল। হোমস বসল। বলল, “আমার কাজকারবারে তোমার উৎসাহ কম নয়। আমাকে নিয়ে অনেক কাহিনিও লিখেছ— যদিও তা অতিরঞ্জন-দুষ্ট। এর আগেও তোমাকে বলেছি, কল্পনা দিয়ে রাঙানো ঘটনা কখনোই বাস্তব ঘটনার মতো চাঞ্চল্যকর হতে পারে না।’ ‘তাতে আমার সন্দেহ আছে।’ ‘তাহলে আরও উদাহরণ হাজির করা যাক। মি. জাবেজ উইলসন একটা অসাধারণ কেস এনেছেন আজ। এর আগেও তোমাকে বলেছি, খুব অদ্ভুত আর অসাধারণ ঘটনার পেছনে বড়ো অপরাধ নাও থাকতে পারে— থাকে কিন্তু এমন ব্যাপারের পেছনে যা চোখ এড়িয়ে যায় অতি সহজেই। এই যে কেসটা এখন শুনছি, এর মধ্যে অপরাধের ছায়াটুকুও দেখছি না। তা সত্ত্বেও বলব ইদানীংকালের মধ্যে এমন বিচিত্র মামলা আর হাতে আসেন...